Tuesday, May 22, 2018

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - প্রথম যুগের সাম্রাজ্য তাত্ত্বিকেরা এবং ভারতউপমহাদেশের সম্পদ

১৬০০ সালে যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৈরি হল ব্রিটিশ মাটিতে, তার বহু আগে থেকে কিন্তু সলতে পাকানো হচ্ছিল সাম্রাজ্য ইচ্ছার।খুব প্রকাশ্যেই জ্ঞানীরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের পরিকল্পনা পেশ করছিলেন। এদের মধ্যে অন্যতম রিচার্ড হাকলুইত এবং উইলিয়াম হার্বোর্ন - এদের কূটনীতিতে ভারের বিপুল সম্পদ ব্যবহারের ভাবনা ছিল। 
সে সময় ক্যাথলিক এবং মুসলমান বিরোধিতার জোর ঢেউ উঠেছিল গোটা ব্রিটেনজুড়ে। এই কাজে অন্যতম নেতৃত্বস্থানীয় ছিলেন হাকলুইত। ১৫৫৯ সালে প্রকাশিত হয় প্রিন্সিপ্যাল নেভিগেশনস - ব্রিটিশ সীমান্ত ছাড়িয়ে বাণিজ্য এবং সাম্রাজ্য বিস্তারের খুব প্রভাবশালী হাতিয়ার হয়ে উঠবে এটি। তিনি এই বইটি উতসর্গ করেন প্রথম এলিজাবেথের প্রধান সচিব ফ্রান্সিস ওয়ালয়ািঙ্ঘামকে। তিনি এশিয়ার ধনীদের নিয়ে কি করা যায় সেই রণনীতি বিশদে আলোচনা করেন। তাঁর প্রস্তাব ছিল ইসলাম এবং ক্যাথলিকদের ওপর সাম্রাজ্য করা দরকার। রানী মেরির স্বামী, স্পেনের ক্যাথলিক দ্বিতীয় ফিলিপ ইংলন্ডের রাজা ছিলেন। পরে তিনি স্পেন আর পর্তুগালের রাজা হন।
হাকলুইতের সিদ্ধান্ত ছিল বিশ্ব শাসন করতে তারা ভগবানের কাছে আদেশপ্রাপ্ত। ইংলন্ডের উচিত তার প্রাথমিক ক্যাথলিক শত্রু স্পেনের বিরুদ্ধে অস্ত্রসজ্জা করে সঠিক মুসলমান বন্ধু আর শত্রু নির্নয় করা। মার্টিন লুথার স্প্যানিশ আর অটোমমান সাম্রাজ্যকে এক শ্রেণীতে ফেলেছিলেন। ধ্রুপদী ব্রিটিশ এবং স্কটিস লেখকদের রোম সাম্রাজ্য ধ্বংসকারী বর্বর অটোমানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিলই। এলিজাবেথের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হার্বোর্ন ১৫৮০ নাগাদ যুক্তি দেখালেন স্পেনিয়দের বিরুদ্ধে অটোমান-ব্রিটিশ সমঝোতা হলে শয়তানের দুই অঙ্গ পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মরবে এবং এটা আদতে ইংলন্ডের পক্ষে যাবে।
জোনাথন ইয়াকট, সেলিং এম্পায়ার - উইন্ডিয়া ইন মেকিং অব ব্রিটেন এন্ড আমেরিকা ১৬০০-১৮৩০ বইতে বলছেন, Harborne was to impress upon the sultan that the king of Spain now ruled much of Europe and "the whole Indias both east and west whence he draweth infiqite treasures, the sinews of war." Religious conflict among Protestants, Catholics, and Muslims was thereby bound up with notions of wealth-producing Indias।

Sunday, May 20, 2018

ইওরোপকেন্দ্রিকতা বিরোধী চর্চা - ইওরোপবিদ্য ভাবনার শেষ বিদায়৩২ - ক্লদ আলভারেজ

সমাজ বিজ্ঞান পাঠ্যের বিবর্তন

পাঠ্যতালিকা

Notes & References
1. See: http://www.iescp.org/index.php/events
2. Farid Alatas, Alternative Discourses in Asian Social Science (Sage
Publications, 2006), p.13.
3. Sir John Davies, A Discovery of the True Causes Why Ireland Was Never
Entirely Subdued Nor Brought Under Obedience of the Crown of England
Until the Beginning of His Majesty’ s Happy Reign (1612), quoted in Henry
Morley, ed., Ireland Under Elizabeth And James the First (London: George
Routledge and Sons, Limited, 1890), p. 291.
4. See: http://www.vvv03.com/Minutes.pdf
5. See: http://www.vvv03.com/Minutes.pdf
6. Ngugi wa Thiong’o, Decolonising the Mind (Heinemann, 1981), p.3.
7. Quoted in Just World Trust, Dominance of the West over the Rest (Citizens
International, Penang, 1995), p.9.
8. Guillermo Bonfil Batalla, Mexico Profundo: Reclaiming a Civilization
(University of Texas Press, 1996).
9. Syed Hussein Alatas, The Captive Mind (1969); The Captive Mind Revisited
(Multiversity, 2006).
10. Ngugi wa Thiongo, Decolonising the Mind (Heinemann, 1981), p.20.
11. See: www.mathcurriculumcenter.org/PDFS/.../comm_of_10_summary.
pdf
12. M.K. Gandhi, Hind Swaraj[1909], 2008 edition, p.89.
13. Vinay Lal, ‘The Disciplines in Ruins: History, the Social Sciences, and
Their Categories in the “New Millennium”’, Emergences, Vol. 12, no.1,
2002, p.143.
14. Ward Churchill, ‘White Studies: The Intellectual Imperialism of Higher
Education’ (Citizens International, 2002), p.25.
15. Ward Churchill, ‘White Studies’, pp.10-11.
16. M.I. Edet, ‘On the Teaching of Western Philosophy in African
Universities.’
17. M.B. Ramose, African Philosophy Through Ubuntu (Mond Books, Harare,
Zimbabwe, 2002), p.29.
18. See: http://www.ugc.ac.in/policy/modelcurr.html
19. See Claude Alvares, Science, Development and Violence: The Revolt Against
Modernity (Oxford India Paperback, 1994), pp.95-100.
20. Ramakrishna Rao, Anand C Paranjpe, Ajit K Dalal, Handbook of Indian
Psychology (Cambridge University Press India Pvt Ltd., 2008), p.2.
21. A.V. Naidoo, ‘Challenging the Hegemony of Eurocentric Psychology,’ The
Journal of Community and Health Sciences, Vol.2, no. 2 (1996), pp.9-16.
22. H.A. Bulhan, ‘Afro-centric psychology: Perspectives and Practice,’
1985.
23. Quoted in Just World Trust, Human Wrongs (Kuala Lumpur, 1996),
pp.140-141.
24. Vinay Lal, ‘The Disciplines in Ruins: History, the Social Sciences, and
Their Categories in the “New Millennium”’, Emergences, Vol.12, no.1
(2002), p.142.
25. G. Prakash Reddy, Danes are Like That! Perspectives of an Indian
Anthropologist on the Danish (Grevas Forlag, 1993).
26. Nsekuye Bizimana, White Paradise, Hell for Africa? (Edition Humana,
1989).
27. Farid Alatas, Alternative Discourses in Asian Social Science: Responses to
Eurocentrism (Sage Publications, 2006), p.32
28. E. Ngara, ‘Universals and Local Content in the Curriculum of an African
University: some guiding principles’ (www.multiworldindia.org/)
Other general works
Philosophy
Claude Alvares et al, “Multiversity Undergraduate Curriculum for Philosophy
in Indian Universities.” www.multiworldindia.org/
Sociology
Ali Shariati, On the Sociology of Islam, 1979.
Economics
Martin Khor, “The Right Teaching of Economics”, Multiversity Conference
on “Redesign of Social Science Curricula,” Penang (2004)
Psychology
Durganand Sinha, Psychology in a Third World Country, 1986.
Anthropology
Linda Tuhiwai Smith, Decolonizing Methodologies, 1999.
Aroha Te Pareake Mead, “De-colonisation and identity: The bridge to unite
or divide women.”
Archie Mafeje, Anthropology in Post-Independence Africa: End of an Era and the Problem of Self-Defination, Heinrich Boell Foundation, Kenya, 2001.
History
Vinay Lal, The History of History, 2005.
Political Science
Peter Ronald de Souza, “We have political thought but we don’t have theory,”
2004.
Cheng Feng Shih, “Academic Colonialism and the Struggle for Indigenous
Knowledge Systems in Taiwan.” Social Alternatives, Vol.29, no.1, 2010.
General Works
Vinay Lal, Empire of Knowledge, 2002.
Rana Kabbani, Europe’s Myths of Orient: Devise and Rule, 1986.
Pavan K Varma, Becoming Indian, Penguin, 2010.
Ziauddin Sardar, Ashis Nandy, Merryl Wyn Davies, Claude Alvares, The
Blinded Eye, Goa, 1998.
Mehdi Nakosteen, History of Islamic Origins of Western Education (A.D.800-
1350), 1964.
Sonia Smallacombe, “The Impact of Western Intrusion on Aboriginal and
Torres Strait Islander People,” 1998.
Yusef Progler, ‘The University Among the Ruins,’ Multiversity Conference
on ‘Redesign of Social Science Curricula,’ Penang (2004)
Mohamed Idris, Inaugural speech, Multiversity Conference on ‘Redesign of
Social Science Curricula,’ Penang (2004)
Vinay Lal (ed), Dissenting Knowledges Pamphlet Series (Multiversity).
Yusef Progler, Multiversity Radical Essentials Pamphlet Series (Multiversity).
For all documents linked to Multiversity, please download from www.
multiworldindia.org/
This is a lengthier version of a paper first presented at the International
Conference on ‘Academic Imperialism’ in Higher Education of Islamic and
Non-Western Countries organised by the Center for International Scientific
Studies & Collaboration (CISSC) and Iranian Higher Education Association
at Tehran, May 1-2, 2010. An earlier version was delivered at the Govind
Ballabh Pant Social Science Institute in Allahabad in 2006. Thanks to Vinay


Lal for comments.

ইওরোপকেন্দ্রিকতা বিরোধী চর্চা - ইওরোপবিদ্য ভাবনার শেষ বিদায়৩১ - ক্লদ আলভারেজ

সমাজ বিজ্ঞান পাঠ্যের বিবর্তন

ইওরোপমুখ্যতা অতিক্রম – নতুন  কাঠামো এবং পদ্ধতি বিষয়ক কিছু ভাবনা
চ) আমরা যদি সমাজবিজ্ঞানকে ঠিকঠাকভাবে নামকরণ করতে পারি তাহলে এগুলিতে স্বচ্ছতা আসবে। আমরা যদি অন্যান্য সমাজতত্ত্ব আলোচনায় সমাজতত্ত্বের ইওরোপিয় তত্ত্ব আলোচনার সময় সেটাকে ইওরোপিয় সমাজতত্ত্ব নাম দিই বা আমেরিকিয় তাত্ত্বিকদের কাজ পড়ার সময় আমেরিকিয় সমাজতত্ত্ব বলি তাহলে বোঝা যাবে। এটি জ্ঞানচর্চায় সমতা নিয়ে আসবে এবং পাঠককে মনে করিয়ে দেবে অন্যান্য জাতিবাদী বিজ্ঞানের মত ইওরোপিয় বিজ্ঞান চর্চা আদতে এথনোসায়েন্স, সেগুলো ইওরোপের জন্যে হয়ত ঠিক আছে, কিন্তু আমাদের জন্যে উদ্ভট এবং হাস্যকর।
ছ) এতদিন ধরে চলে আসা নৃতাত্ত্বিক বিভাগগুলি বন্ধ করে দেওয়া দরকার। যেহেতু প্রচুর মানুষ এই কাজে জুতে আছেন, এটা খুব তাড়াতাড়ি করা যাবে না, তাদের উল্টো-নৃতত্ত্বের(রিভার্স আন্থ্রোপলজি) পাঠ পড়ানো দরকার। ইয়োরোপের সমাজ সম্বন্ধে গবেষণা করতে আমাদের অইওরোপিয় জ্ঞানী প্রয়োজন। তাদের প্রাচ্যবিদ্যার মত আমাদের হাতে তৈরি ইওরোপবিদ্যা(Europology) দিয়ে আমরা যেভাবে ইওরোপিয়রা এবং বর্তমানে আমেরিকিয়রা সারা বিশ্বের ছড়িয়ে পড়ে প্রত্যেক সমাজ এবং পরিবেশে ঢুকে তাদের মত মাথা গলিয়ে বিশ্বকে অবাসযোগ্য দুঃস্বপ্নে ভরপুর করে তুলেছে তার বিরুদ্ধে আমাদের কি করনীয় তার পথ দেখতে পারব। ইওরোপবিদ্যা আমাদের বর্তমানের ইওরোপসৃষ্ট নানান অনাচার যেমন দক্ষতা আর উত্পাদনশীলতা ওপরে অসীম জোর, সমসত্ত্বতার দিকেও ঝোঁক, অর্থনীতিকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়া, ব্যক্তিগত কৃতিত্বর ওপরে অতিনির্ভরতা, বিশ্বকে একদেহী (হোমোজিনিয়াস) করে তোলা, কৃষ্টিগত বৈচিত্রের ন্যুনতা(flatten cultural diversity), বিভিন্ন কারখানাসম বিদ্যালয়ে একই ছাঁচের মানুষ তৈরির উদ্যমের মত কৃষ্টিগতভাবে ঘৃণ্য এবং রাজনৈতিকভাবে প্রতারক বিষয়গুলির দিকে দৃষ্টি ফেরাতে সাহায্য করবে। অইওরোপিয়রাই বিশ্লেষণের কাজ হাতে নিলে সেটি ইওরোপিয় সমাজেরও কাজে আসবে। কিন্তু আমরা কেন এই দলদলে পা ঢুকয়ে নিজেদের ফাঁসাব? আমাদের কৃষ্টি আর ধর্ম বলেছে যন্ত্র দিয়ে নিজেদের মাপানোর কাজ না করিয়ে বাঁচার কি আনন্দ সেটা আমরাই জানি।
জ) বর্তমানে চলতে থাকা এবং গভীরভাবে প্রভাবশালী ইওরো-আমেরিকয় প্রত্যক্ষ্যবাদী পদ্ধতিকে প্রশ্ন করা দরকার। প্রয়োজনে তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানের সৃজনশীল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা দরকার, যেটা মানব সভ্যতা আর অন্যান্য প্রজাতির প্রাণজগতের কাজে আসবে, যেখানে বিশ্বের বাস্ততন্ত্রকে শ্রদ্ধা করা হবে। প্রত্যেকের সঙ্গে সমভাবে আলোচনা করার উদ্যম নেবে বিশ্ববিদ্যালয়। এতে প্রত্যক্ষ্যবাদিতা উপে যাবে না ঠিকই, বা চুঁইয়ে পড়ার তত্ত্বর প্রভাব পুরোপুরি আটকানোও যাবে না, কিন্তু এটা শিক্ষার্থীরা মনে রাখবে চুঁইয়ে পড়া পদ্ধতির তুলনায় সৃষ্টিশীল পন্থাই পথ, না হলে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
ঝ) ক্ষমতাশালী অধ্যাপকেদের লেখা পাঠ্য পুস্তক আর প্রকাশনা সংস্থাকে খুব তাড়াতাড়ি বর্জন করা দরকার। বৌদ্ধিক পড়াশোনার শ্রেণী নিজের পাঠ্যপুস্তক রচনা করুক, নিজেদের সমাজের জ্ঞানচর্চার পথ নির্ধারণ করুক, অবশ্যই সমালোচনার দৃষ্টিতে, কিন্তু নিজের দৃষ্টিভঙ্গী অবলম্বন করে। ফরাসি, জার্মান বা আমেরিকিয়রা এই কাজটি করতে পারে, তাহলে পদ্ধতিগতভাবে কেন আমরা করতে পারব না? এটা যদি তাদের অধিকার হয়, তাহলে এটা আমাদেরও অধিকার। আমরা নিজেরা নিজেদের পাঠ্য পুস্তক রচনা করলে, বাজারে বন্যার মত ছেয়ে যাওয়া পশ্চিমী পদ্ধতিতে লিখিত বইএর হাত থেকে মুক্তি মিলবে।
ঞ) গবেষণার পদ্ধতিটা বক্তৃতা আর পাঠ্যপুস্তক নির্ভর না হয়ে অনেক বেশি আলোচনা সাপেক্ষ এবং নানান ধরণের মাধ্যম নির্ভর হওয়া দরকার। আমাদের সময় পাঠ্যপুস্তক জ্ঞানের অপকর্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়ে রয়েছে। আধুনিক সময়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপজাত এগুলি। আমাদের সমাজগুলি যেমন কোরাণ বা মহাভারত থেকে কোন বছরের পর বছর নানা জ্ঞান গ্রহণ করে চলেছি, তেমনি এইগুলোকেও একইভাবে চিকিৎসা করা দরকার নেই, এগুলোকে প্রশ্ন করা দরকার। বরং এই ধ্রুপদী পাঠ্যগুলি আমাদের শ্রেণীর মৌলিক পাঠ্য হওয়ার দরকার, এগুলিকে নিয়ে শ্রেণীতে বিশদ আলোচনা করা দরকার।
চ) পশ্চিমি সমাজবিজ্ঞানী, পেশাদারদের আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এসে অবাধে গবেষণা করার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া উচিত, যদি না তারা সমাতরালভাবে তাদের সমাজে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে আমাদের গবেষকদের কাজ করার সুযোগ করে দেয়।
ছ) পশ্চিমি সমাজ ও জ্ঞানচর্চাকে সর্ব্ব্যাপী(inclusive) করে তুলতে হবে, এই ধারণা থেকে খুব তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসা দরকার। কারণ এতে তারা অপশ্চিমি জ্ঞানচর্চাকে তাদের নিজেদের ঘাটতিওয়ালা জ্ঞানচর্চায় প্রবেশ করিয়ে তাদের জ্ঞানচর্চার প্রসার বাড়াবে এবং পশ্চিমের চলতি কাঠামো আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে। এতে তাদের উন্নতি হবে, তাতে আমাদের কি, তারা তো আর আমাদের জ্ঞানচর্চার বিস্তার ঘটাবে না।

এখানে ওখানে খুটুর খাটুর করে সারাই করা পাঠ্যক্রম কোনভাবেই আমাদের শিক্ষাকেন্দ্রিগুলির ইওরোপকেন্দ্রিকতা থেকে বের হয়ে আসার নিদান নয়। ইওরোপকেন্দ্রিক সমাজবিজ্ঞান এবং ইওরোপিয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা আমাদের নতুন শুরুয়াতের রক্ষাকবচ হয়ে উঠতে পারে। 

ইওরোপকেন্দ্রিকতা বিরোধী চর্চা - ইওরোপবিদ্য ভাবনার শেষ বিদায়৩০ - ক্লদ আলভারেজ

সমাজ বিজ্ঞান পাঠ্যের বিবর্তন

ইওরোপমুখ্যতা অতিক্রম – নতুন  কাঠামো এবং পদ্ধতি বিষয়ক কিছু ভাবনা
ক) সমাজ বিজ্ঞানে বিশ্বাসযোগ্য এবং অর্থপূর্ণ অইওরোপমুখ্যার কাঠামো তৈরির দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রাথমিক কর্মপদ্ধতি হল, বৌদ্ধিকভাবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পাঠ্যক্রমে চালু ইওরোপমুখ্য জ্ঞানচর্চাগুলির তাত্ত্বিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসার কর্মপদ্ধতি নির্ণয় করা। স্বাভাবিকভাবেই এই অইওরোপিয় পাঠ্যক্রম তৈরির ক্ষেত্রে সব থেকে সোজা পথ হল সমাজতত্ত্ব, মনোবিদ্যা এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মত সাম্রাজ্যবাদী ইওরোপমুখ্যতায় ভরপুর জ্ঞানচর্চাগুলি প্রাথমিকভাবে বাদ দিয়ে খুব সহজেই যেগুলিতে পরিবর্তন আনা যায় যেমন ইতিহাস, সাহিত্য ইত্যাদিগুলিতে মনোনিবেশ করা। আমাদের মনে রাখা উচিত পশ্চিমি জাতিবিজ্ঞানকে মূলস্রোতের বিজ্ঞানের পাঠ্যক্রম হিসেবে গণ্য না করা। আমাদের নিজেদের উচিত কৃষ্টি নৈতিকতা এবং পরিবেশ এবং জীবন বিষয়ে গবেষণা কর্ম, পদ্ধতি এবং প্রণালীতে কৃষ্টির শেকড় নির্ভরতা এবং কৃষ্টিতে গ্রহনযোগ্য ধারনাগুলি কি হতে পারে সেগুলি গভীরভাবে আলোচনা। আমরা সমআলোচনার মাধ্যমেই দেশিয় বৌদ্ধিক পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত হব। আফ্রিকিয়, মাওরি, অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীরা প্রত্যেকেই ইওরোপমুখ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন, তাদের কর্মকাণ্ড আমাদের আলোচনা করা দরকার। এ বিষয়ে আমাদের পথ দেখাতে পারেন পাকিস্তানি উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনের বৌদ্ধিক চর্চক ইকবাল আহমেদ এবং তাঁর খালদুনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির ভাবনা। বিকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারনায় পেরুর PRATEC, the Andean Project for Peasant Technologies (Proyecto Andino para las Tecnologías Campesinas)  অথবা Universidade de la Tierra in Oaxacaয় মিলবে। এই ধারনাগুলি বয়ে যেতে দেওয়া ঠিক হবে না।
খ) বৈকল্পিক আলোচনা/বিতর্ক শব্দটাই বিভ্রান্তিকর। কারণ এটি আদতে আমাদের তথাকথিত মূলস্রোতের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার কাজ করে। আমরা যদি আহরণমূলক, ব্যতিক্রমী না বলে যদি বহুত্ববাদী আলোচনা বা প্রতর্ক শব্দবন্ধটা ব্যবহার করি তাহলে কিছুটা কাছাকাছি পৌঁছতে পারব হয়ত। এটাকে নৈতিকভাবে দেখা দরকার। এই পদ্ধতিতে হয়ত আমরা সমাজ বিজ্ঞানের হাজারো ফুল ফোটাতে পারব।
গ) আমাদের অইওরোওপিয় অআমেরিকয় বিশ্ববদ্যালয়ের বা কৃষ্টি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বৌদ্ধিক এবং পাঠ্যজগতের মানুষদের, এই ভাবনা চিন্তা বদলের কাজে অংশগ্রহণ না করিয়ে আমাদের দেশজ বিদ্বানদের নিয়ে কাজ করা দরকার। সিঙ্গাপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগ দারুণ কিছু কাজ করেছে ভারতীয় এবং ফিলিপিন্সের বিদ্বানদের নিয়ে এসে। Linda Tuhiwai Smith এবং অন্যান্য মাওরি গবেষক এ বিষয়ে অনেক দূর এগিয়েছেন। পশ্চিমি বিদ্যাচর্চার পরম্পরা থেকে পাঠ নকল না করে, আমাদের নিজেদের বিদ্যাচর্চার পরম্পরায় মনোনিবেশ করা দরকার।
ঘ) প্রাথমিকভাবে গবেষণা বা প্রবন্ধ লেখায় প্রায়োগিকভাবে পশ্চিমি ঔপপনিবেশিক লেখকদের উদ্ধৃতি, বইএর নাম ইত্যাদি ব্যবহার না করা দরকার। শুরুর দিকে এই কাজটা যদি ঠিকভাবে না করা যায় তাহলে পশ্চিমি বিদ্বানদের থেকে উদ্ধৃত বাক্য ব্যবহারের হার কমিয়ে দিয়ে দেশিয় বিদ্বানদের কাজ নিয়ে আলোচনা করতে হবে।

ঙ) ছাত্রছাত্রীদের শুধুই উদ্ধৃতিকন্টকিত গবেষণা লেখায় উতসাহিত না করে কিভাবে উদ্ধৃতি ব্যতীত গবেষণায় মনোনিবেশ করা যায় যে বিষয়ে তাদের ভাবনাচিন্তাকে প্রবাহিত করাতে হবে। আজকের দিনের বৈদ্ধিক জগত অন্যের কাজ ব্যবহার করা ছাড়া কোন গবেষনাই শেষ করতে পারে না। পূর্বধারণাছাড়া দর্শনশাস্ত্রীয় কাজ ব্যর্থ হবে(No doubt presuppositionless philosophizing failed)। কিন্তু উদ্ধৃতিকন্টকিত ব্যতীত গবেষণা সে কাজ করে না। মহত্মা গান্ধী ৯০ খণ্ডের লেখা সংগ্রহে কোথায় উদ্ধৃতি ব্যবহার হয়েছে খুঁজে দেখতে হয়। বিশ্বের সব থেকে শুদ্ধতম লেখা – সাহিত্যে কোন উদ্ধৃতিকন্টক নেই। সত্যের ঠেকনা দরকার হয় না। আপনি যদি আপনার জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা ছাড়া কোপ্ন কাজ করতে অক্ষম হন তাহলে আপনি যতই উদ্ধৃতি ব্যবহার করুণ, সে কাজ ব্যররত্রহ হবেই। 

Friday, May 18, 2018

ইওরোপকেন্দ্রিকতা বিরোধী চর্চা - ইওরোপবিদ্য ভাবনার শেষ বিদায়২৯ - ক্লদ আলভারেজ

সমাজ বিজ্ঞান পাঠ্যের বিবর্তন
হোয়াইট স্টাডিজ আর অনুমানগুলির সমস্যার সমালোচনা

সাদা সাম্রাজ্যবাদী পাঠ্যক্রমের সঙ্গে মিলিতভাবে কোন মধ্যপন্থা তৈরি সম্ভব কি না
অন্য ভাষায় অসাদা পঠন পাঠন বিশ্বের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব হল শিক্ষা ব্যবস্থায় সাম্রাজ্যবাদী প্রভাব প্রতিরোধ করা, এবং সমাজকে জানা বোঝার ক্ষেত্রে ইওরোপমুখ্য প্রতর্ক এবং ইওরোপমুখ্য পদ্ধতিগুলো বোঝা, জানা, এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসা। If the result is social science that is more diverse, plural, less easily intelligible to everybody, more inscrutable to each and every member of the social science community, then so be it. (A good example of this is presentday writing by Maoris in English which is inscrutable unless one
also digests and understands key Maori terms.) This would be an infinitely more interesting scenario — and more creative and productive – than the present system in which one homogenized way of thinking and doing, originating from and suitable for one small class of individuals in one or two societies, becomes the norm for everyone everywhere.

সাম্রাজ্যবাদী পড়নে বই আর পত্রিকার প্রভাব
শিক্ষণে দীর্ঘকাল ধরে সাম্রাজ্যবাদী পকড় বজায় রাখার অন্যতম উপাদান হল বই আর পত্রিকা। মাল্টিভার্সিটি পক্ষে কেরল আর বম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমগুলি নিয়ে একটি সমীক্ষা চালিয়েছিনের দর্শনের অধ্যাপক বিশ্রাম গুপ্তে। তার সমীক্ষায়, বিশেষ করে ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে এবং পাঠ্যবই পড়তে বলার পরামর্শে খুব বেশি ঔপনিবেশিক তথ্য খুঁজে পান নি। যে বইগুলো পড়তে বলা হয়েছিল সেগুলিতে ছিল স্থানীয় বিদ্বানদের লেখা। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব এবং মনোবিদ্যায় এক্কেবারে উল্টোধারা। উদাহরণস্বরূপ, মনোবিদ্যার পাঠ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে গোটাটা ইওরোপিয় এবং আমেরিকিয় লেখকদের বই ধরে। পাঠয়ক্রমে তাত্ত্বিক পাঠগুলি বিশেষ করে সমাজতত্ত্বে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এবং মনোবিদ্যায় মূলত ইওরোপমুখ্য এবং অধিকাংশ বইই পশ্চিমমুখ্যতায় ভরপুর। কেরল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্বের স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রমে ধ্রুপদী সমাজতত্ত্বের যে ২৩টা বই পাঠের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সেগুলি সব ইওরোপিয়দের লেখা। সমীক্ষাটি দেখার জন্যে www.multiworldindia.org দেখুন।
রাজনৈতিক স্বাধীনতা পাওয়ার ছয় দশক পরে যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আমাদের মানসিক দাসত্বের স্তরটা স্পষ্টতই বোঝা যায়। এটা আরও স্পষ্ট হয় যে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা বিদ্বানেদের মানসিক বিকাশের স্তর, পরিণতি, নিজের ওপর বিশ্বাস আর ক্ষমতার পরিণতি কোথায় আটকে আছে।
সমাজবিজ্ঞানের পত্রিকা প্রকাশনা এই ধরণের তাত্ত্বিক ও বৌদ্ধিক নিয়ন্ত্রণ আর কর্তৃত্ব বজায় রাখার অন্যতম হাতিয়ার। বিভিন্ন ‘আন্তর্জাতিক’ পত্রিকায় বিদ্বানেরা লেখা ছাপিয়ে এবং সেই লেখাগুলির মান নির্ণয় করিয়ে নিজেদের কেরিয়ারের অগ্রগতির সূচক তৈরি করেন। বিভিন্ন পশ্চিমি ক্ষমতাধর বিদ্বান এই পদ্ধতিটি তৈরি করেছিলেন দক্ষিণের বিদ্যালয়গুলির বিদ্বানদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে। অথচ ব্যাপারটা উল্টো হওয়া উচিত ছিল। বিদ্বান তার নিজের ভাষায় বা তার দেশের কোন একটা ভাষায় কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক পত্রপত্রিকাগুলিতে কিভাবে লিখতে পারছেন, তার ওপরে নির্ভর করা উচিত ছিল সেই বিদ্বানের কেরিয়ারের অগ্রগতি। দেশের বিদ্বানদের বোঝা দরকার আদৌ পত্রিকাটি আন্তর্জাতিক স্তরের কিনা। পশ্চিমের এরকম আন্তর্জাতিক ঘোমটাওয়ালা বহু পত্রিকা আছে, সেগুলো চিহ্নিত করা দরকার।
এছাড়াও তার বিদ্বানের প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা্টা হওয়া উচিত তার নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালে, যেখানে তার পেশাদার জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হয়। তারপরে বাইরের পত্রিকাগুলিতে প্রকাশের ভাবনা ভাবা দরকার। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পত্রিকাগুলিতে লেখার মান রক্ষার জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের বিদ্বানদের যুক্ত করা যেতে পারে। যে কোন ইওরোপিয় ভাষার তথাকথিত আন্তর্জাতিক পত্রিকায় – যেগুলি স্থানীয়ভাবে অইওরোপিয়ভাষী এলাকায় খুব বেশি পঠিতই নয় - বিদ্যাচর্চার বদলে স্থানীয় ভাষায় এবং স্থানীয় বিষয়ে যে সব বিদ্বান লেখালিখি গবেষণাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এগুলি সাধারণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তগুলি নিলে সারা বিশ্বে মানবিকবিদ্যা অনেকি বেশি গ্রহনীয় হবে এবং মানোন্নত হবে।

এর পরের অংশটিতে বৈচিত্রপূর্ণ, বহুত্ববাদী অইওরোপিয় সমাজবিদ্যার দিকে এগোতে কি কি করা দরকার সেটি আলোচনা করেছি। 

ইওরোপকেন্দ্রিকতা বিরোধী চর্চা - ইওরোপবিদ্য ভাবনার শেষ বিদায়২৮ - ক্লদ আলভারেজ

সমাজ বিজ্ঞান পাঠ্যের বিবর্তন
হোয়াইট স্টাডিজ আর অনুমানগুলির সমস্যার সমালোচনা

সাদা সাম্রাজ্যবাদী পাঠ্যক্রমের সঙ্গে মিলিতভাবে কোন মধ্যপন্থা তৈরি সম্ভব কি না
এর আগে বিভিন্ন সমাজ বিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমে ইওরোপমুখ্য ভাবনা-তত্ত্বের কলুষিতকরণের বিশদ বর্ণনা আমরা পাই ওয়ার্ড চার্চিলের বই হোয়াইট স্টাডি থেকে। যখন কোন পরম্পরার সমাজের ছাত্রছাত্রী আমেরিকিয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমগুলি গভীর নজর দিয়ে দেখে, তখন তার সত্যকারের বিবিমিষা হয়। তার মনে হয়, পূর্বজরা তাকে যে পরম্পরার জ্ঞান দিয়ে গিয়েছিল, সেগুলির কোন অস্তিত্বই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পাঠ্যক্রমে নেই, তাই তার মনে হয় যে সে সব কটা পাঠ্যক্রমেই বাতিল হিসেবে গণ্য হচ্ছে, সেই জ্ঞান থেকে, যা জীবনধারণের রূপরেখা তৈরি করে, পরিবেশের সঙ্গে এবং অন্যান্য প্রজাতির সঙ্গে আলাপের ভিত্তি তৈরি করে। যদিও এই জ্ঞানের খুব কম অংশই আজ অবশিষ্ট আছে, কিন্তু সেই পরম্পরার জ্ঞান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিপুল বিশাল ইওরোপকেন্দ্রিক জ্ঞানউতপাদনের থেকে অনেকি বেশি শ্রেয় এবং গ্রহনীয়।
ওয়ার্ড চার্চিলের কাজ থেকে আমরা পাচ্ছি, উচ্চশিক্ষার বিপুল বিশাল অংশ, বলা দরকার গোটা অংশটার উদ্ভব, মাথাব্যথা, উদ্দেশ্য, পদ্ধতি এবং অনুসৃত নীতি সাদাদের দ্বারা এবং সাদাদের জন্যেই তৈরি হয়েছে। সেই পরম্পরার ছাত্রছাত্রীর মনে হয় এই পশ্চিমি জ্ঞানের যেহেতু কোন বিশ্বজনীনতা নেই, তাহলে সে কেন এই পাঠ্যক্রম পড়বে। অথচ এই পাঠ্যক্রমগুলি অসাদা পড়ুয়াকে আত্মস্ম্যাত করতে হয় তার কারণ, এটি বিমূর্ত ধারণা, বিমূর্ত পদ্ধতিহিসেবে তার কাছে আসে, ঠিক যেভাবে সে ইংরেজি অক্ষরগুলি শেখে।
সিঙ্গাপুরের ফরিদ আলাতাস বা আফ্রিকার ইমানুয়েল নগারা বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানে সাদা চামড়ার মানুষদের হাতে তৈরি নানান তত্ত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বলেছেন কেন এগুলি তাদের সমাজে কোন গুরুত্ব নেই। পশ্চমি সমাজ বিজ্ঞানের সফলতা হল অন্যান্য সমাজের কৃষ্টিগত অর্জনগুলি বা তাদের বৌদ্ধিক পরম্পরার বা অভিজ্ঞতা না জেনে বুঝেই সামাজিক সমীক্ষা করার ক্ষমতা। অন্য সমাজের সঙ্গে সাদা চামড়ার মানুষদের তৈরি পাঠ্যক্রমের যদিও কোন আদানপ্রদান হয়ে থাকে সেটির উদ্দেশ্য হল, সেই সমাজকে তারা আয়না হিসেবে ধরে নিয়ে, তাদের নিজেদের স্বশ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করা।
এখানে মাঝে মাঝেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে আমরা কেন নিজেদের পাঠ্যক্রম চর্চার দায় নিজেদের ওপর নিতে পারি না, বিশেষ করে যখন আমরা আমাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিজেরাই করছি? যদি ইওরোপের রাষ্ট্রবিজ্ঞান চর্চার পাঠ্যক্রমের সংস্করণ, অন্যান্য সমাজের রাষ্ট্র পরিচালনা তত্ত্ব, ধারণা, অভিজ্ঞতা, সূত্র ব্যতিরেকেই পড়ানো যেতে পারে, তাহলে তাদের দেখাদেখি অন্যান্য সমাজ কেন এই কাজটা নিজেরা করে উঠতে পারবে না, বোঝা দায়। তথাকথিত মূলস্রোত বা ইওরোপিয়বাদ যে সব সমাজের সমাজবিজ্ঞানের মূলসূত্র, ধারণা, শ্রেণীবিন্যাসকে নস্যাৎ করে নিজেকেই শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করতে পারে, কেন তার বিপরীতে সেই সমাজগুলি তাদের মত করে সমাজ বিজ্ঞানকে তৈরি করতে পারবে না? এই চিন্তাকে, সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দেওয়ার অর্থ হল, একটা কৃপাপূর্ণ বাস্তবতা তৈরি করা, যেখানে বলা হবে, ইওরোপই শেষ কথা বলে এবং এটি সর্বজনমান্য, যা মিথ্যা এবং গ্রহণযোগ্য নয়। যদি কোন সমাজ বিজ্ঞানের পড়ুয়া বলে সে পশ্চিমের সমাজ তাত্ত্বিকদের ভাবনা তত্ত্ব এবং পদ্ধতি ছাড়া কাজ করার কথা ভাবতেই পারে না, তাহলে সেটা তার নিজের ভাবনা, কিন্তু এই ভাবনাকে সার্বজনীন হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার, বা অন্যান্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই।
বিষয়টা হল ইওরো-আমেরিকিয় চিন্তাবিদদের তৈরি করে দেওয়া কাঠামোর মধ্যে দাঁড়িয়ে, অ-সাদা সমাজের চিন্তকদের ভাবনাচিন্তা জ্ঞানচর্চার ধারাকে বাদ দিয়ে তৈরি করা সমাজ বিজ্ঞানের পাঠয়ক্রমকে প্রশ্নহীনভাবে অনুসরণ করে যাওয়ার মধ্যে কিন্তু সাদা চামড়ার পাঠ্যক্রমকে কিন্তু সবল করা যাবে না, যদি অন্যচিন্তার প্রবেশ না ঘটে সেই পাঠ্যক্রমে। প্রত্যেক মিনিট, প্রত্যেক ঘন্টা, প্রত্যেক দিন, প্রত্যেক বছর এই কাঠামোটি তৈরি করে পশ্চিম আমাদের ভাবনাকে রুদ্ধ করে চাপিয়ে দিচ্ছে, সেখানে আমাদের অসাদাদের, আমাদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞানচর্চা, শ্রেণীবিভাগ করা কাঠামোর কোন অস্তিত্ব নেই, যার মাধ্যমে আমদানি করা শ্রেণী বিভাগে অভ্যস্ত হয়ে পড়া আমরা, আমাদের পরিবেশ ইত্যাদির সঙ্গে অর্থপূর্ণভাবে সংযোগসাধন করতে পারি।

Thursday, May 17, 2018

ইওরোপকেন্দ্রিকতা বিরোধী চর্চা - ইওরোপবিদ্য ভাবনার শেষ বিদায়২৭ - ক্লদ আলভারেজ

সমাজ বিজ্ঞান পাঠ্যের বিবর্তন
হোয়াইট স্টাডিজ আর অনুমানগুলির সমস্যার সমালোচনা

শিক্ষা সাম্রাজ্যবাদ হিসেবে ভূগোল পাঠ
২০০৫ সালের পেনাঙ্গের মাল্টিভার্সিটি দ্বিতীয় সম্মিলন Redesign of Social Sciences Curriculum শীর্ষকে উপস্থিত হয়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল শিক্ষক, অনু কাপুর আহূত শ্রোতাদের জানালেন, কেন তিনি তার স্নাতকোত্তর শ্রেণীর ছাত্রদের বলেন ভূগোলের পাঠ্যক্রমের সেই সব ভাবনাগুলি ঝালিয়ে এবং ছেঁকে নিতে, যেগুলোকে তারা সার্বজনীন ভূগোল বলছেন, সেগুলোর মধ্যে কোন কোনটা এবং কতদূর ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে কার্যকর।
ছাত্রছাত্রীরা নতুন করে শুরু করল পাঠ্যকে ভারত আর পশ্চিমের দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখতে, এবং তারা যখন এই বিভাগ করাটা শেষ করল, তখন দেখা গেল মোটামুটি ৪০০র আশেপাশের পাতার পাঠ্যক্রমের মধ্যে চতুর্থাংশ পশ্চিমে, পশ্চিমের লেখক এবং পশ্চিমের দৃষ্টিভঙ্গীতে লিখিত হয়েছে। আর যে সব মডেল পড়ানো হয়, বিশেষ করে কৃষিতে, জমি ব্যবহারের প্যাটার্নটা মূলত ইওরোপ থেকে ধার করা। দেশিয় ভাবনাটা নেইই। ইন্ডিয়ার রাজনৈতিক স্বাধীনতা ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও অবস্থার খুব বেশী কিছু পরিবর্তন হয় নি।
এই চরিত্রগুলো সেই ঔপনিবেশিক ইতিহাসের দ্বারা তৈরি হয়েছিল এবং আজও বহাল তবিয়তে অবস্থান করছে। নৃতাত্ত্বিকদের মতই ভূগোলবিদেরা এবং কার্টোগ্রাফাররা অইওরোপিয় দেশগুলি দখল আর লুঠের কাজে সাম্রাজ্যকে সরাসরি সহায়তা করেছিল। ভূগোলবিদেরা সাম্রাজ্যের সীমানা বিস্তারে সাহায্য করে সাম্রাজ্যের সীমা নতুন করে নির্ধারণ করে। ভূগোলবিদেরা সাম্রাজ্যের সঙ্গে মিলে বিভিন্ন অঞ্চল এবং ক্ষেত্রর নাম পাল্টানোতে সহায়তা করে, এবং নিজেদের দেশের এলাকার নাম ধার করে এবং নামগুলির খ্রিষ্টিয়করণও করে এনে উপনিবেশের শহর, এলাকা, শহরতলীর নাম পালটে দেয় যাতে দেশ থেকে নতুন করে সাম্রাজ্যে আসা চাকরিজীবি আর ব্যবসায়ীরা দেশের কথা মনে করতে পারে।
এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ সাম্রাজ্যের কবল থেকে বেরিয়ে আসার পরে কিভাবে দেশগুলো তাদের এলাকার নাম পালটে ফেলছে। এটা কিন্তু দেখার। নতুন নামকরণ আরেক ধরণের ক্ষমতা তৈরির আভাস। বম্বের নাম হোল মুম্বই এরকম প্রত্যেকেরই কিছু কিছু উদাহরণ নিশ্চই মনে পড়বে। সমস্যা হোল এই রাজনৈতিক হাতিয়ারকে ভোট হাতানো বা রাজনৈতিক সমর্থন জোগাড় করার জন্যে কাজে লাগানো হয়। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, যারা আমেরিকিয় রাজনৈতিক চিন্তকদের তত্ত্ব অনুসরণ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ান, তাদের থেকে কোন তুল্যমূল্য উদ্যোগ দেখা যায় না।
এই রকম কড়া প্রতিবাদ সত্ত্বেও(যা কয়েক দশক ধরে হয়ে চলেছে) স্বাধীন ইন্ডিয়ার রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে স্থাপিত এই বিপুল অর্থবান ক্ষমতাশালী বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও ইওরোপিয় ধারণা এবং ইওরোপিয় ভাবনাচিন্তা কোন রকম লজ্জা ছাড়াই পড়ানো হয়। ডুর্খেইম, ওয়েবার, মার্ক্সএর তত্ত্ব ইওরোপিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে ঠিক আছে। নিজেকে বিজ্ঞাপিত করতে এবং অন্যদের বাজার থেকে হঠিয়ে দিতে ভোক্ত্রাদের জন্যে দূরদর্শনে নিয়মিত কোকাকোলা বিজ্ঞাপন দেখে প্রভাবিত হওয়ার মতই, আমরাও এই মানুষদের আলাপ আলোচনা দেখে মনে করি যেহেতু ইংরেজি শিক্ষিত বাবুরা এই তত্ত্বগুলো বারবার আওড়ান এবং ইওরোপিয় শিক্ষা ব্যবস্থা আর অন্যান্য ভাবনাগুলোকে তাড়িয়ে দিয়ে নিজের নিজের রাজত্বে স্বরাট হয়ে বসে আছে বলেই আমাদের মনে হয় এই ভাবনাগুলোর কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। আমরা অন্য তাত্ত্বিকদের কথা জানি না কারণ আমরা ইংরেজি ছাড়া অন্যান্য ভাষাই জানি না।
আমার প্রশ্ন হল এই সমাজতাত্ত্বিক, তাত্ত্বিক এবং রাজনৈতিকতাত্ত্বিকদের মধ্যে মিল কোথায়? কেন আমরা মেনে নিই না, আমরা তাদের মহত্ব স্বীকার করে নিয়েছি কারণ তাদের নাম উঠতে বসতে নিয়মিত শুনি, প্রচার করি, ফলে প্রভাবিত হয়েই মেনে নিই। আমাদের নিজস্ব কোন ধারণা গড়ে ওঠে না। কি করেই বা গড়ে উঠবে। এই তাত্ত্বিকেরা দুশতাব্দ আগে জার্মান ভাষায় লিখেছিলেন তাঁদের তত্ত্ব। তারপরে সেগুলো ইংরেজিতে অনুদিত হয়েছে। আমাদের হয় ইংরেজি বা জার্মান জানতে হবে সেগুলো বুঝতে। কোন লেখাই আমাদের মাতৃভাষায় লিখিত নয়। তাহলে কেন বার বার আমরা তাদের নাম উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকছি না। আমরা কি মুর্খ হয়ে যাব? আজ সেগুলো আমরা শুধুই নকল করে চলেছি, সেই শৃঙ্খল থেকে কি আমরা মুক্ত হব না – নাকি আমরা সেই দূর সময় বসে মানুষগুলোর দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখা বিশ্বকে আজও দেখতে থাকব? তাহলে কি এটা ঠিক হল, আমরা কোন মানসিক ক্রাচ ছাড়া আর বেশি দূর হাঁটতে পারব না।